|
ধামরাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবসায়ী আহত
ধামরাই প্রতিনিধিঃ ধামরাইয়ে
সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে
হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে গতকাল শুক্রবার।
প্রথমে তাকে উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে তার অবস্থা
আশংকাজনক।
জানা গেছে,
উপজেলার সানোড়া গ্রামের মৃত
হাসিম আজাদের ছেলে ব্যবসায়ী আজাদ মেন্টাল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক আবুল
কালামের ভাই মামুনের সঙ্গে একই এলাকার মুস্তফা মেম্বার গংদের সঙ্গে মাটি
ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল।
এরই জের ধরে আজাদ
মেন্টাল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক আবুল কালামের উপর মুস্তফা মেম্বারের
নেতৃত্বে সন্ত্রসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে ধামরাই
থানায় মামলা হয়েছে।
ধামরাই উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার
ধামরাই প্রতিনিধিঃ ধামরাই
উপজেলা পরিষদের পুুকুর থেকে এক সন্তানের জনক ইয়ার মোহাম্মদ বরাদ হোসেনের
লাশ ধামরাই থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে গতকাল শুক্রবার।
জানা যায়,
ধামরাই পৌরসভার হুজুরি টোলা
মহল্লার এ্যাডভোকেটদের সহকারী নূরু মিয়ার ছেলে নেশাখোর ইয়ার মোহাম্মদ
বরাদ হোসেনের লাশ উপজেলা পরিষদের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় এলাকাবাসী দেখতে
পেয়ে থানা পুলিশে সংবাদ দেয়।
পরে পুলিশ লাশ
উদ্ধার করে মর্গে না পাঠিয়ে তার স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করে।
ধামরাইয়ে যুবদলের কর্মী সম্মেলন
ধামরাই প্রতিনিধিঃ ধামরাইয়ে
যুবদলকে শক্তিশালী করার ল্েয গতকাল শুক্রবার যুবদলের এক কর্মী সম্মেলন
দলীয় কার্য্যালয় রতখোলায় অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপজেলার ১৬টি
ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করে।
এ কর্মী সম্মেলনে
ধামরাই থানা যুবদলের সভাপতি ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি
হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য,
উপজেলা চেয়ারম্যান ও ধামরাই
থানা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা যুবদলের আহবায়ক নাজিম উদ্দিন,
যুগ্ম আহবায়ক ওয়ালিদ খান,
সদস্য আতিকুর রহমান,
নাইমুর রহমান ফারদুন ও ঢাকা
জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ।
সাভারে বিএনপি’র
ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার :
সাভারে গতকাল শুক্রবার
বিএনপি’র উদ্যোগে
ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভাকুর্তা ইউনিয়ন
বিএনপি আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন দলীয় নেতা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ
চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন।
ভাকুর্তা ইউনিয়ন উচ্চ
বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা যুবদল আহ্বায়ক
নাজিম উদ্দিন ভিপি,
ঢাকা জেলা ছাত্রদল সভাপতি রেজাউল করিম পল,
সাভার থানা ছাত্রদলের
আহ্বায়ক রেজাউল করিম জুয়েল,
যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন
মিন্টু, শওকত হোসেন
খোকন প্রমুখ।
সভা পরিচালনা করেন মোকলেছুর
রহমান।
সাভার বহুমুখী সমবায় সমিতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টারঃ সাভার পৌর
এলাকার দণি দরিয়ারপুরস্থ
‘সাভার
বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ’
এর নির্বাহী পরিষদের
নির্বাচন গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমিতির ৫১ জন
সদস্যের মধ্যে ৪৬ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।
নির্বাচনে সদস্যরা সাধারণ
সম্পাদক, সহ-সাধারণ
সম্পাদক ও ৭ জন সদস্য নির্বাচিত করেছেন।
নির্বাচিতরা হলেন,
সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন
কবীর, সহ-সাধারণ
সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন।
সদস্যরা হলেন,
মাকসুদুর রহমান আজাদ,
আজাদী হাসান আলাল,
মোঃ আঃ হালিম,
জিএম নাছির হোসেন,
অরূপ চক্রবর্তী লিটন,
শামীম কাওছার ও তুষার
আহম্মেদ।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আবুল বাশার চৌধুরী তুহিন।
আশুলিয়ায় পিস্তল ও বোমাসহ শ্রমিক নেতা গ্রেপ্তার
আশুলিয়া ব্যুরোঃ আশুলিয়ার
পলাশবাড়ি থেকে শুক্রবার বিকালে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আলী রেজা চৌধুরী
তুহিনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তার কাছ থেকে দুই
রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি রিভলবার ও পাঁচটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা
হয় বলে পুলিশ দাবি করেছে।
তুহিন গামের্ন্টস
শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং সাভার ও আশুলিয়া
আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত
সুপারিনটেনডেন্ট মোজাম্মেল হক জানান,
বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে
পলাশবাড়ি বালুর মাঠ থেকে তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসময় তার কাছ থেকে
দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি রিভলবার উদ্ধার করা হয়।
তাৎণিক জিজ্ঞাসাবাদে
তার দেওয়া তথ্যে বালুর মাঠের পাশের ঝোপ থেকে পাঁচটি শক্তিশালী বোমা
উদ্ধার করা হয়।
মোজাম্মেল হক দাবি
করেন, আশুলিয়া
শিল্পাঞ্চলে নাশকতার জন্য পরিকল্পনা করছিলেন তুহিন।
বিভিন্ন তৈরি পোশাক
কারখানায় হামলার পর থেকেই তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।
তিনি আরো জানান,
সরকার ঘোষিত মজুরি কাঠামো
প্রত্যাখ্যান করে বিােভের সময় গত ৩১ জুলাই আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে উচ্ছৃঙ্খল
শ্রমিকরা পুলিশের উপর হামলা চালায়।
এসময় ঢাকা জেলা
পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টের দেহরী রুহুল আমিনের একটি নাইন এমএম পিস্তল,
দুটি ম্যাগজিন,
১৬ রাউন্ড গুলি এবং আশুলিয়া
থানার উপ-পরিদর্শক শাহীন শাহ পারভেজের একটি ওয়াকিটিকি সেট লুট হয়।
বেশ কয়েকজন ঊধ্বর্তন
কর্মকর্তা ওই হামলায় আহত হন।
এ ঘটনায় পুলিশের উপর হামলা,
সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের
গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আবিদ হোসেন বাদী হয়ে
তিন হাজারের বেশি শ্রমিককে আসামি করে একটি মামলা করেন।
এর মধ্যে আলী রেজা
চৌধুরী তুহিনসহ ৬০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
অস্ত্র লুটের ঘটনায়
এখন পর্যন্ত ৩২ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে লুট হওয়া অস্ত্র
উদ্ধার হয়নি।
এ ঘটনায় তুহিনের বিরুদ্ধে
থানায় বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তুহিন নড়াইলের
লোহাগড়া থানার চরকোটাকুল গ্রামের ইনজাহার চৌধুরীর ছেলে।
আশুলিয়ার পলাশবাড়িতে
মোতালেব হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি।
কালিয়াকৈরে
রেন্ট-এ কার চালককে হত্যা,
গ্রেপ্তার ৩
কালিয়াকৈর সংবাদদাতাঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর বাজারের রেন্ট-এ কার স্ট্যান্ডের হেলপারকে গাড়ী
চালানো না শেখানোর জের ধরে গাড়ী চালক আজহারুল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ
৬ মাস পর গত বুধবার রাতে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো
কালিয়াকৈর বাজারের গোপাল (২০),
ধামরাই এলাকার আনোয়ার (১৯)
ও শরীফ আহাম্মেদ (২০)।
গ্রেপ্তারকৃতরা
বৃহস্পতিবার গাজীপুর জুডিশিয়াল আদালতে স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দি
দিয়েছে।
পুলিশ ও আসামীদের ভাষ্যমতে
জানা গেছে, উপজেলার
কালিয়াকৈর বাজারের রেন্ট-এ কার স্ট্যান্ড থেকে গত ৯ মার্চ ৩/৪ জন যুবক
একটি মাক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো চ-১১-৭৮১৫) ঢাকার এয়ারপোর্ট যাওয়ার কথা বলে
ভাড়া নেয়।
ওই দিন থেকে গাড়ী ও গাড়ীর
চালক আজহারুল নিখোঁজ ছিল।
পরে ঢাকার
ক্যান্টনম্যান্ট এলাকা থেকে গাড়ী উদ্ধার হলেও চালককে পাওয়া যায়নি।
গাড়ী উদ্ধারের পর
পুলিশ নিহতের মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে ওই গাড়ীর হেলপার গোপালকে
বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে।
তার দেওয়া তথ্যমতে
বুধবার রাতেই ধামরাই থেকে তার বন্ধু আনোয়ার ও শরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের
জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা জানায়,
গোপালকে গাড়ী চালানো না
শেখানোর কারণে তারা চালক আজহারুলকে হত্যা করে গাজীপুর সদর উপজেলার ভোগরা
এলাকায় ফেলে দেয়।
ওই সময় জয়দেবপুর
থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে অজ্ঞাত হিসাবে দাফন এবং একটি হত্যা
মামলা দায়ের করে।
কালিয়াকৈরে ফেন্সিডিলসহ ২ জন গ্রেপ্তার
কালিয়াকৈর সংবাদদাতাঃ
কালিয়াকৈর উপজেলার পুর্বচান্দরা (বোর্ডমিল) এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে
মৌচাক ফাঁড়ি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার
করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,
ওই দিন রাত ৮ টার দিকে ওই
দুই ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী ওই এলাকার ছোট বাবু ওরফে ফেন্সি বাবুর নিকট
ফেন্সিডিল বিক্রি করতে আসে।
এ সময় মৌচাক পুলিশ
ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই সাইফুল ইসলাম গোপন সংবাদে খবর পেয়ে একদল পুলিশ নিয়ে
ওই এলাকার ফেন্সি বাবুর ঘরে অভিযান চালিয়ে ৬০ বোতল ফেন্সিডিলসহ মোর্শেদ
(২৫) ও উৎপল (৩৫) কে গ্রেপ্তার করে।
এসময় পুলিশের
উপস্থিতি টের পেয়ে ফেন্সি বাবু পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত
মোর্শেদ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মোসলেম
উদ্দিনের ছেলে ও উৎপল নাটোর জেলার চৌকিরপার গ্রামের উত্তম কুমারের ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃতদের
মাদক আইনে মামলা দিয়ে গাজীপুর জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
এ ব্যাপারে মৌচাক পুলিশ
ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল ইসলাম জানান,
গ্রেপ্তারকৃতরা দির্ঘদিন
ধরে এলাকায় ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য বিক্রি করে আসছিল।
তাদের বিরুদ্ধে
মাদকসহ চোরা চালান আইনে মামলা হয়েছে।
কালিয়াকৈরে ট্রেনে কাটা পড়ে মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু
কালিয়াকৈর সংবাদদাতা ঃ
জয়দেবপুর-রাজশাহী রেললাইনের উপজেলার মাটি কাটা রেলক্রসিং এলাকায়
বৃহস্পতিবার রাতে ট্রেনেকাটা পড়ে সুলতান (৩৫) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর
মৃত্যু হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়,
ওই রাত ১২ টার দিকে এপেক্স
বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সুলতান মিয়া কাজ শেষে বাড়ী ফেরার পথে মাটিকাটা
রেলক্রসিংয়ের পুর্বপাশে রেললাইন অতিক্রম করার সময় রাজশাহী গামী একটি
ট্রেন তাকে ধক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত সুলতান মিয়া
উপজেলার অলিয়ার চালা গ্রামের নোয়াব আলীর ছেলে।
অনিয়ম-দুর্নীতি: স্থবির মংলা বন্দরের উন্নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার :
প্রকল্প পরিচালকের
অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে স্থবির হয়ে আছে মংলা বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্প।
মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও
নেভিগেশন এইডস টু মংলা পোর্ট প্রকল্পের কাজ এখন পর্যন্ত শুরু করতে
পারেননি প্রকল্প পরিচালক।
২০০৮ সালে ২ বছর
মেয়াদি এ প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেও এ পর্যন্ত টেন্ডারিং সম্পন্ন হয়নি।
একই সঙ্গে টেন্ডারিং
প্রক্রিয়ায় প্রকল্প পরিচালক কমান্ডার এনামুল হক বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও
অযোগ্যতার অভিযোগ উঠেছে।
তিনবার টেন্ডারিং
করেও তার পছন্দের লোক কাজ না পাওয়ায় তিনি তা বাতিল করেন।
প্রকল্প পরিচালকের
অনিয়মের কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরীবিণ ও
মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।
আইএমইডি প্রকল্পটির
মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
প্রকল্প পরিচালকের অযোগ্যতা,
অদতা ও অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল
করতে গিয়ে প্রকল্পটি সমস্যার আবর্তে নিপতিত।
অযোগ্য ও
দুর্নীতিবাজ এ পরিচালককে সরিয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে আবার নতুন করে
বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করা হবে বলে আইএমইডি সূত্রে
জানা গেছে।
গত ৬ মে প্রকল্পটি সরজমিনে
পরিদর্শনে গিয়ে প্রকল্প পরিচালক কমান্ডার এনামুল হক প্রকল্পের কার্যালয়ে
মূল্যায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেছেন।
সূত্র জানায়,
প্রকল্পের পরিচালক অদ ও
অনভিজ্ঞ রুবেল ব্রাদার্স নামে তার পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে
কাজ করানোকে কেন্দ্র করে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
প্রকল্পটি
বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া কমান্ডার এনামুল হক প্রকল্পটির জন্য ২০০৯
সালের ২০ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো দরপত্র আহবান করেন।
কিন্তু কমিটির স্বার
ছাড়াই ওই টেন্ডার চূড়ান্ত করায় তা বাতিল করা হয় বলে কমিটির সদস্য এএম
নুরুল আলম আইএমইডিকে জানান।
পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ১
জুলাই প্রকল্পটির জন্য দ্বিতীয় টেন্ডারের টিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় অরুপ
এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বাছাই করার
পাশাপাশি ওই কোম্পানিকে কাজ দেয়ার সুপারিশ করে কমিটি।
কিন্তু পরিচালক
সামান্য অজুহাতে প্রতিষ্ঠানটির দরপত্র বাতিল করেন।
এরপর রুবেল
ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করেন প্রকল্প পরিচালক।
কিন্তু দরপত্র যাচাই
কমিটি ওই কোম্পানির লাইসেন্স,
অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক
লেনদেনের দলিল দেখতে চাইলে পরিচালক তা দেখাতে অস্বীকার করেন।
দ্বিতীয় দরপত্র
বাতিল না করে প্রকল্প পরিচালক গোপনে গত ১৩ মার্চ আবারো দরপত্র আহবান করেন।
তবে দরপত্র বাচাই
কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তিকে এবিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে দ্বিতীয় দরপত্রে
কমিটির বাছাই হওয়া অরুপ এন্টারপ্রাইজ নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করে,
টেন্ডার বাছাই কমিটি উক্ত
কোম্পানিকে বাঝাই করার পরও প্রকল্প পরিচালক কাজ না দিয়ে রুবেল
ব্রাদার্সকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে।
তৃতীয় দরপত্র আহবান
স্থগিত না করে গত ১ এপ্রিল দরপত্র উম্মুক্ত করা হয়েছে।
এসব সমস্যায় জর্জরিত
হয়ে প্রকল্পটিকে এখন সমস্যাসংকুল প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে
প্রকল্প পরিচালক কমান্ডার এনামুল হক জানান,
প্রথম টেন্ডারে সর্বনিম্ন
দরদাতা অরুপ এন্টারপ্রাইজ প্রথম থেকেই নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ করা
শুরু করে।
কোম্পানিটির সঙ্গে
বিশ্বমানের সরঞ্জাম সরবরাহের কথা থাকলেও তারা নিম্নমানের চীনা সরঞ্জাম
সরবরাহ করে।
তিনি এর প্রতিবাদ করলে
কোম্পানি কাজ বন্ধ করে দেয়।
দ্বিতীয়বার টেন্ডারে
সব কাজ যত দ্রুত সম্পন্ন করার কথা ছিল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতায়
তা সম্ভব হয়নি।
সূত্র জানায়,
২০০৮ সালের জুলাই থেকে ২০১০
সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনুমোদন দেয়।
মংলা পোর্টের পশুর
চ্যানেলে দিন-রাত সব সময় সুষ্ঠু ও নিরাপদ নাব্যতা দিয়ে জাহাজ চলাচলের
জন্য বয়া স্থাপনের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।
রাতের বেলায়
জাহাজগুলোকে ফেয়ারওয়ে বয়াতে প্রবেশ করানোর উদ্দেশ্যে এ প্রকল্পটি গ্রহণ
করা হয়।
প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ
করা হয় ২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
সূত্র জানায়,
মংলা বন্দরটি ফেয়ারওয়ে বয়া
হতে প্রায় ১শ ৩১ কিলোমিটার উজান পশুর নদীর তীরে অবস্থিত।
এ দীর্ঘ চ্যানেলের
কোথাও সরু, নাব্যতা
কম আবার বিভিন্ন জায়গায় বাঁক থাকায় চ্যানেলে দিকনির্দেশনার জন্য পর্যাপ্ত
বয়া না থাকায় জাহাজ চলাচল যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষ করে রাতের
বেলায় কোনো জাহাজ চলতেই পারে না।
যার কারণে দিনের
বেলায় কোনো জাহাজ জেটিতে নোঙ্গর করতে না পারলে ওই জাহাজটিকে পরের দিন
পর্যন্ত অপো করতে হয়।
এসব কারণে মংলা বন্দরে কোনো
জাহাজ যেতে অনীহা প্রকাশ করে।
এতে মংলা বন্দরের
সার্বিক কার্যক্রমও দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে।
এমতাবস্থায় দেশের
অন্যতম এ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দরকে আরো গতিশীল করে দেশের আমদানি
রপ্তানি আরো গতিশীল করতে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়।
২০০৮ সালের ১৩ মে
তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রকল্পটি
অনুমোদন দেন।
সূত্র জানায়,
প্রকল্পটির মেয়াদ গত জুন
মাসে শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়।
গত ২৬ মে তদন্তকারী
প্রতিষ্ঠান আইএমইডির সহকারি পরিচালক বাবুলাল রবিদাস সরেজমিন পরিদর্শনে
যান।
এসময় পরিচালকের কাছে
প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার ওপর প্তি হয়ে উঠেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকায়
ফিরে বিভাগীয় প্রধানের কাছে এ ঘটনা জানান।
পরে আইএমইডির প থেকে
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
এছাড়াও রুবেল
এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সের কাগজপত্র এনে পরীা করে তাদের বিরুদ্ধেও
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে বাস্তাবয়ন
করার সুপারিশ করা হয়েছে। |